JustPaste
HomeCategoriesAboutDonateContactTerms of UsePrivacy Policy
JustPaste

Free online notepad — write and share instantly

Navigate

  • Home
  • Timeline
  • Categories

Info

  • About
  • Donate
  • Contact

Legal

  • Terms of Use
  • Privacy Policy

© 2026 JustPaste.app. All rights reserved.

Made with ♥ by JustPaste

Untitled Page | JustPaste.app
about 2 months ago13 views
👤Personal

আসসালামু আলাইকুম আঙ্কেল এবং আন্টি। কেমন আছেন আপনারা?

আপনাদের ছেলে সায়েম আমাকে আপনাদের শরীরের সব কষ্টের কথা বিস্তারিত বলেছে এবং ডা. মহসিন মিঞার নতুন প্রেসক্রিপশনসহ আপনাদের পুরোনো সব চিকিৎসার কাগজপত্র দেখিয়েছে। সেগুলো দেখেই আমি বুঝতে পেরেছি যে আপনারা দুজন কত কষ্ট করছেন এবং আপনাদের শরীরের ভেতর আসল সমস্যাটা কোথায়। সায়েম আপনাদের নিয়ে খুব চিন্তা করে; সে মন থেকে চায় আপনারা দুজনেই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন এবং হাসিখুশি থাকুন। তাই আপনাদের ভালোর জন্যই আমি কিছু জরুরি এবং চোখ খুলে দেওয়ার মতো কথা বলছি, একটু মনোযোগ দিয়ে শুনবেন।

১. ভুল খাদ্যাভ্যাস ও অসুস্থতার আসল কারণ:

আঙ্কেল এবং আন্টি, আপনারা সারাদিন এত কষ্ট করেন, অথচ আপনারা যে খাবারগুলো খাচ্ছেন—সেগুলোই আপনাদের শরীরকে আস্তে আস্তে দুর্বল করে দিচ্ছে! মেশিনে ছাঁটা ধবধবে সাদা ভাত, সয়াবিন তেল, আর সস্তা পাঙ্গাশ বা তেলাপিয়া মাছ খেয়ে শরীরে কোনো আসল পুষ্টি যাচ্ছে না। কলা হলো একটা দারুণ পুষ্টিকর ফল, সেটা তাজা না খেয়ে আপনারা ৩-৪ দিন ফেলে রেখে তেলে ভেজে বড়া বানিয়ে খাচ্ছেন! আর পুষ্টিকর খাবারের বদলে বাজার থেকে বিস্কুট বা পিলোর মতো সস্তা প্যাকেটজাত খাবার কিনে খাচ্ছেন।

এগুলোর কারণেই আপনাদের দুজনের শরীরে ভিটামিন-ডি, ক্যালসিয়াম আর আসল প্রোটিনের চরম অভাব তৈরি হয়েছে। আঙ্কেল, এই পুষ্টির অভাবেই আপনার হাড়ের ক্ষয় হচ্ছে, কোমরে তীব্র ব্যথা হচ্ছে আর পায়ে রগ টান ধরছে। আর আন্টি, পিত্তথলি অপারেশন করে ফেলে দেওয়ার পর আপনার মাথা ঘোরা, মাথা ব্যথা, হাত-পা চাবানো আর তীব্র গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কিন্তু এই পুষ্টির অভাব থেকেই বাড়ছে। দিনে মাত্র ১ কেজি দুধ কিনে তিনজনে ভাগ করে খেলে এই হাড়ের ক্ষয় কোনোদিন পূরণ হবে না। এখন থেকে প্রতিদিন কিছু বাদাম আর ভালো মানের খেজুর অল্প করে হলেও আপনাদের নিয়মিত খাওয়া উচিত।

২. ঘরের ডিম-মাংস বিক্রি করে ফার্মের মুরগি কেনার বোকামি:

আন্টি, আপনাকে আমি পরম আদরে কিন্তু একটু কড়া ভাষায় বলছি—বাড়ির প্রাকৃতিকভাবে বড় হওয়া খাঁটি হাঁস-মুরগি আর ডিম বিক্রি করে দিয়ে বাজার থেকে হরমোন আর অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া পোল্ট্রি বা ব্রয়লার কিনে খাওয়া একটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত! আপনারা ভাবছেন ডিম-মুরগি বিক্রি করে টাকা বাঁচাচ্ছেন, অথচ এই বিষাক্ত খাবার খেয়ে পরবর্তীতে এর দশগুণ টাকা ডাক্তার আর ওষুধের পেছনে ঢালতে হচ্ছে।

পোল্ট্রির বিষাক্ত চর্বি আন্টি আপনার লিভার আর গ্যাস্ট্রিকের বারোটা বাজাচ্ছে, কারণ আপনার তো পিত্তথলিই নেই! আর গ্রামে একটা অন্ধবিশ্বাস আছে যে হাঁসের ডিম খেলে নাকি বাত ব্যথা হয়—এটা একদম ভুয়া কথা! আন্টি, আপনার যেহেতু দাঁত নেই, শক্ত খাবার চিবোতে পারেন না, তাই ঘরের হাঁস-মুরগির খাঁটি ডিম আর নরম গোশতের ঝোলই হলো আপনার সুস্থতার জন্য সবচেয়ে বড় ওষুধ। আর আঙ্কেল, আপনার হাড়ের জোর বাড়াতে এবং সায়েমের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জন্য দিনরাত যে ব্রেন খাটাতে হয়, তার জন্য এই খাঁটি ডিম-মাংসের পুষ্টি এখনই সবচেয়ে বেশি দরকার।

আরেকটা কথা আঙ্কেল-আন্টি—মুরগি পালন করছেন মানেই যে ডিম-মুরগি বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে মুরগির খাবার কিনতে হবে, এই নিয়ম একদম বাদ দিন! মুরগির খাবারের খরচ পরিবারের অন্য আয়ের উৎস থেকে মেটাবেন। আর বাড়ির ডিম ও মুরগি আপনারাই খাবেন। খুব বেশি জরুরি না হলে এগুলো খবরদার বাজারে বিক্রি করবেন না।

৩. গোশতের চূড়ান্ত স্বাস্থ্যকর র‍্যাংকিং (১ থেকে ৭):

আপনাদের শরীরের বর্তমান রোগব্যাধি (আঙ্কেলের প্রেশার ও অ্যাজমা, আর আন্টির পিত্তথলি না থাকা ও গ্যাস্ট্রিক) বিবেচনা করে ঘরে গোশত রান্না হলে কোনটা আগে খাবেন আর কোনটা কতদিন পর পর খাবেন, তা আমি ১ থেকে ৭ নম্বর দিয়ে বলে দিচ্ছি:

১. ১ নম্বর (সেরা): কবুতরের গোশত। এটি শরীরের জন্য টনিকের মতো কাজ করে। সপ্তাহে ২-৩ দিন অনায়াসে খেতে পারবেন।

২. ২ নম্বর: দেশী মোরগের গোশত। এটি একদম চর্বিহীন। আঙ্কেলের হার্ট ও প্রেশারের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ। সপ্তাহে ৩-৪ দিন বা নিয়মিত খাওয়া যাবে।

৩. ৩ নম্বর: দেশী মুরগির গোশত। খুব সহজে হজম হয় এবং শরীরে দ্রুত বল-শক্তি ফিরিয়ে আনে। সপ্তাহে ২-৩ দিন খাবেন।

৪. ৪ নম্বর: দেশী হাঁসের গোশত। এটি বেশ পুষ্টিকর, তবে চর্বি থাকায় আন্টি মাসে ২-৩ বারের বেশি খাবেন না।

৫. ৫ নম্বর: রাজহাঁস / চীনা হাঁস / চিলা হাঁস। এগুলোতে প্রচুর তেল-চর্বি থাকে। আন্টির যেহেতু পিত্তথলি নেই, তাই এটা উনার জন্য ক্ষতিকর। মাসে ১ বারের বেশি খাওয়া যাবে না।

৬. ৬ নম্বর: খাসির গোশত। এতে ক্ষতিকর চর্বি ও কোলেস্টেরল বেশি, যা আঙ্কেলের প্রেশার বাড়িয়ে দেবে। তাই মাসে ১-২ বারের বেশি খাওয়া ঠিক নয়।

৭. ৭ নম্বর (সবার শেষে): গরুর গোশত। এটি পুষ্টিকর হলেও আঙ্কেলের প্রেশার ও হার্টের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই মাসে ১ বারের বেশি খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।

বিশেষ সতর্কবার্তা: ব্রয়লার, পোল্ট্রি বা সোনালী মুরগিকে এই তালিকায় রাখাই যাবে না। এগুলো আপনাদের শরীরের জন্য বিষের মতো! একদম বাধ্য না হলে এগুলো ভুলেও মুখে তুলবেন না।

৪. পারিবারিক সমাধান ও জীবনযাত্রা:

আঙ্কেল এবং আন্টি, খাবারদাবার বা সংসারের খরচ নিয়ে আপনারা নিজেদের মধ্যে কোনো রাগারাগি বা অশান্তি করবেন না। সুন্দর সমাধান হলো—বাড়ির হাঁস-মুরগি আর ডিম সব বিক্রি না করে অন্তত অর্ধেকটা নিজেদের খাওয়ার জন্য রেখে দেবেন। আর বাকি অর্ধেক যদি বিক্রি করেন, সেই নগদ টাকাটা আন্টি নিজের কাছে জমিয়ে রাখবেন।

আঙ্কেল, আপনি এখন কিছুদিন পানিতে দাঁড়িয়ে পাট ধোয়া বা ভারী বোঝা টানার মতো কাজ একদম বন্ধ রাখুন। কোমরের ব্যথার জন্য রাতে হালকা গরম সেক নিন, সোজা হয়ে বসুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। আর দুজনেই ডাক্তারের দেওয়া ওষুধগুলো নিয়ম করে সময়মতো খাবেন।

শরীর ঠিক থাকলে তবেই সংসারে আসল শান্তি থাকবে। আপনারা শুধু নিজেদের খেয়াল রাখুন, খাঁটি পুষ্টিকর খাবার

খান আর হাসিখুশি থাকুন।

← Back to timeline